১৬ এপ্রিল ২০২২(বিবিনিউজ ) : সাভারের তেঁতুলঝোড়া ও ভরারী হলমার্ক গ্রুপের মালিকানাধীন হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব এলাকায় অবস্থিত হলমার্কের বিভিন্ন কারখানার জেনারেটর মেশিনারীজ, দরজা, জানালা, গেটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুট হয়ে গেছে। বর্তমানে কারখানাগুলোর ভবন ভেঙ্গে জমি দখলের মাধ্যমে সেগুলো প্লট আকারে বিক্রীর পায়তারা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা। তবে সবকিছু স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের চোখের সামনে ঘটলেও এসব সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব কার। কোন প্রকার বাঁধা না আসায় অনেকটা নির্বিঘ্নেই চলছে বেদখল কার্যক্রম।
সম্প্র্রতি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের নগরচর এলাকায় অবস্থিত হলমার্কের তারকাটা কারখানা নামে পরিচিত ভবনটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছে শাহাদাৎ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। সি.এস ৩৮৩, এস.এ ২১৩, আর.এস ১০৫ নম্বর খতিয়ানে সি.এস ও এস.এ ১৭৬ এবং আর.এস ১৬৪ নম্বর দাগে ২ একর ৪৯ শতাংশ জমিটিতে মিসেস নিলুফা হক ওরফে রুনুর নামে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। পাশেই আরও কটি সাইনবোর্ডে ওই জমির ৯২ শতাংশের বায়না সুত্রে মালিক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন গং লেখা রয়েছে। ভবনটি গত কয়েকদিন ধরে ১৫-২০ জন শ্রমিক ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছে। এর আগেই সেখানে থাকা বড় একটি জেনারেটর, তারকানা তৈরীর বেশকিছু মেশিনারীজ, তারকাট তৈরীর জন্য রাখা বিপুল পরিমান লোহা ও রড, ভবনটির জানালা, দরজা, বৈদ্যুতিক পাখা ও বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রসহ বিশালাকৃতির মূলফট লুট হয়ে গেছে। এখন ভবনটি ভেঙ্গে প্লট আকারে জমি বিক্রী করার পায়তারা চলছে।
সরেজমিনে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হলমার্ক গ্রুপের হলমার্ক ফ্যাশন, হলমার্ক ডিজাইন ওয়্যার, ওয়াল মাট ফ্যাশন, ইসলাম ফ্যাশন, ডন অ্যাপারেল, ফারহান ফ্যাশন, মাহমুদ অ্যাপারেল, হলমার্ক স্পিনিং, ববি ফ্যাশন, হলমার্ক ডেনিম কম্পোজিট, ববি ফ্লাট বেড প্রিন্টিং, হলমার্ক এক্সেসরিজ, হলমার্ক নিট কম্পোজিট, ববি ডেনিম কম্পোজিট, হলমার্ক স্টাইল, পারফেক্ট এমব্রয়ডারি, হলমার্ক প্যাকেজিং, জিসান নিট কম্পোজিট, হলমার্ক নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, আনোয়ার স্পিনিং ও ম্যাক্স স্পিনিংসহ বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি কারখানার স্থাপনা ধ্বসে পড়ছে। কিছু কারখানার শেড ভেঙ্গে পড়েছে এবং সেখানে থাকা কোটি কোটি টাকা মূল্যের মেশিনারীজ উধাও হয়ে গেছে। দরজা, জানালা এমনকি মূল ফটকও নেইল অনেক কারখানায়।
হলমার্ক গ্রুপের এবিএস নিটেক্স লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপক (অর্থ) মোঃ মোবারক হোসেন রাজু বলেন, গত ৭-৮ বছর আগে হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ তারকাটা কারখানাটি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই এটি আমাদের দখলে রয়েছে। তবে বর্তমানে গ্রুপের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা কারাগারে থাকায় রাতের আধাঁরে কারখানার সমস্ত মালামালসহ বিভিন্ন আসবাকবপত্র চুরি হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে ভবনটির মালিকানা দাবি করে এটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছে শাহাদাৎ হোসেন গং। আমরা বাঁধা দিয়েছি এবং বলেছি আপনাদের কি কাগজ আছে নিয়ে আমাদের সাথে বসেন। আমাদেরও কাগজ আছে, একসাথে বসলেই সঠিক মালিকানা জানা যাবে। কিন্ত তারা আমাদেরকে পাত্তা না দিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে। তাই আমরা বিষয়টি স্থানীয় ফাঁড়িকে অবহিত করেছি।
বায়না সুত্রে জমির মালিকানা দাবিকারী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জমির মূল মালিক মিসেস নিলুফা হক। তার জমিটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করেছিলো তারকাটা কারখানার মালিক স্বপন। তাদের কাছ থেকে পরবর্তীতে হলমার্ক গ্রুপ কিনে দখলে নেয়। সম্পতি আদালতের রায়ে জাল দলিল প্রমানিত হওয়ায় মূল মালিকের কাছ থেকে আমরা কয়েকজন মিলে জমিটি বায়না করে ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছি।
এদিকে হলমার্ক গ্রুপের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতিতে স্থানীয় ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ির থেকে এসআই সায়েদ এসে ভবন ভাঙ্গার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এসময় উভয় পক্ষকে জমির কাগজ নিয়ে ফাঁড়িতে বসার জন্য বলা হয়।
জানতে চাইলে ট্যানারী ফাঁড়ির ইনচার্য জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, হলমার্ক গ্রুপের অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র দেখে মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার পরই সেখানে কাজ করতে পারবে প্রকৃত মালিক।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, হলমার্ক গুপের সকল সম্পত্তি সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা হলেও এসব বিষয়ে আমাদের কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। রাষ্ট্রিয় সম্পদ যদি কেউ চুরি করে কিংবা দখলের চেষ্টা চালায় তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে।
উল্লেখ্য, সাভারসহ বিভিন্ন জায়গায় হলমার্ক গ্রুপের শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি, এবং এসব জমির উপর প্রায় পাঁচশ কোটি টাকা মূল্যের নির্মানাধীন ভবন ছিলে। এসব সম্পত্তি দেখভালের অভাবে বিনষ্ট হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলো এখন মাদকসেবীদের আখড়া। বিভিন্নজন ভোগ-দখল করে খাচ্ছে।
